Sunday, December 13, 2015

কল্পতরু মেলার ইতিহাস

কল্পতরু মেলা মেলা ও তার অন্তরালে
{অগ্রণী ১৯৭৯ সালে প্রকাশিত }
                                                                                                  যুগল কিশোর ঝা




কল্পতরু উৎসব ও মেলা এই অঞ্চলের বাসিন্দা দের কাছে খুবই পরিচিত । পয়লা জানুয়ারি থেকে প্রায় দশদিন ধরে চলত এই মেলা ও উৎসব লেনিন ময়দানে { কল্পতরু ময়দান }  । কয়েক বছর থেকে অজানা কারনে এইমেলা ও উৎসব বন্ধ আছে ।
কল্পতরু মেলা কে কেন্দ্র করে এই এলাকায় ব্যাপক সাড়া জাগানো অবাল বৃদ্ধ বনিতার মধ্যে । সাজ সাজ রব পড়ে যেত । তাই এই মেলার বিষয়ে ন্তুন ভাবে চিন্তা ভাবনা করতে ও এর অন্তরালের কাহিনী  ও ইতিহাস জানতে গিয়েছিলাম । এই মেলার সংগঠক সংস্থা রামকৃষ্ণ কালিকা নন্দ আশ্রম , সাধুদাঙ্গায় । যা জানতে পারলাম তা থেকে ন্তুনভাবে এই বিষয়ে চিন্তা ভাবনা করার অবকাশ আছে ।
তাই দুরগাপুরের সচেতন মানুষের কাছে এই আশ্রমের অন্তরালের কাহিনী আপনাদের কাছে তুলে ধরতে যাচ্ছি আপনারা এই বিষয়ে চিন্তা ভাবনা করে ন্তুনভাবে এই সমাজ কল্যাণ মূলক আশ্রমটির সমস্ত বাধা বিপত্তি কে অপসারিত করে একে নিজের পায়ে চলার মত করার প্র চেষ্টা চালাবেন ।
একবার চলুন না , ঘুরে আসি রামকৃষ্ণ কালিকা নন্দ আশ্রম ,সাধুদাঙ্গায় । এই যে বটগাছ যার তলায় বসে কালিকা নন্দ জী সিদ্ধি লাভ করেন । ডান দিকে ঐ বাড়িটা রামকৃষ্ণ দেবের মন্দির আর বাঁ দিকের বাড়িটা রাধাকৃষ্ণ মন্দির ও বর্তমান সাধুবাবার আশ্রম । ঐ আশ্রমে থাকেন সিং স্বরুপ ব্রম্ভচারি । কালিকা নন্দের শিস্য নির্মলা নন্দ জী আর তার শিস্য হলেন সিং স্বরুপ ব্রমচারি ।{বর্তমান সাধু বাবা }
রামকৃষ্ণ আশ্রম ও কালিকা নন্দ আশ্রম পৃথক সংস্থা পরবর্তী কালে সাধুবাবার আবেদন ক্রমে রামকৃষ্ণ ও কালিকা নন্দ আশ্রম মিলে রামকৃষ্ণ কালিকা নন্দ আশ্রম নামে রেজিস্টার্ড করা হয় । বর্তমানে সেই রেজিস্ট্রেশন রেনুয়াল না করানোর তার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে । ১৯৭৫ সালে রেজিস্টার্ড বডি তৈরি করা । টি এন মিত্র সভাপতি শম্ভুনাথ পট্ট নায়ক কে সম্পাদক করে কমিটি গঠন করা হয় । পরে অনেকে কমিটি থেকে সরে দাঁড়ান । তবু শম্ভুনাথ , অমল ভট্টাচার্য , নিমাই সেন শর্মা প্রভৃতি  ব্যক্তি এখনও সক্রিয় সদস্য হিসাবে কাজ করে যাচ্ছেন ।
রামকৃষ্ণ কালিকা নন্দ আশ্রম কতগুলি জন কল্যাণ মূলক কাজ কর্মের পরিকল্পনা নেয় । স্কুল নির্মাণ ,হোস্টেল নির্মাণ ,ইত্যাদির দীর্ঘ কর্মসূচি গ্রহণ করে । একটি লাইব্রেরী করা হয়েছিল তাও নষ্ট হয়ে যায় ।
হোমিওপ্যাথি হাসপাতাল চালু করা হয় তাও সেটি বন্ধ হয়ে গেছে ।
আশ্রম গড়ার কাজ ৭৫ সালে শুরু হলেও আজও তা অসমাপ্ত রয়ে গেছে । ন্তুন ভাবে ঠাকুরের পুজার জন্য মন্দির তৈরি কাজ শুরু হলেও তা ১/৪ হয়ে আজও সেই অবস্থায় পড়ে আছে । এই আশ্রমের আয়ের একমাত্র উৎস কল্পতরু মেলা । ১০ বছরের মত এই মেলা হয় । ৩ বছর সাধুদাঙ্গায় পরবর্তী বছর গুলিতে লেনিন ম্যদানে । ১৯৭৫সালে অজানা কোন কারনে এই মেলা বন্ধ হয়েছে গেছে । কল্পতরু মেলা থেকে প্রায় ৯০ হাজারাধিক টাকা আয় হয়েছে । যেটা ইউ বি আই তে জমা আছে । তার মধ্য থেকে আনুমানিক ৩৫ হাজার টাকা  অসমাপ্ত আশ্রম নির্মাণের কাজে খরচ হয়েছে । আবার এই টাকা থেকে ঠাকুরের পুজা রাধাকৃষ্ণের পুজার জন্য প্রতিমাসে ৫০ টাকা করে দেওয়া হয় । ব্যাঙ্কের হিসাব খাতায় বর্তমানে ৫০ হাজার টাকা পরে আছে ।
" আশ্রম নির্মাণ কাজ বন্ধ হল কেন ? " এই প্রশ্ন আমি ব্যানারজিবাবু ও শম্ভুনাথ বাবুকে জিজ্ঞেস করি তাদের কাছ থেকে যা উত্তর পেলাম তার সার মর্ম আপনাদের কাছে তুলে ধড়তে চাই ।
প্রথমতঃ ডি ডি এ থেকে অনুমতি না নেবার জন্যে ডি ডি এ থেকে বাধা আসে । কিন্তু আশ্রমের নির্মাণ কাজ যখন শুরু হয় তখন কমিটির সভাপতি মৌখিক ভাবে ডি ডি এ সাথে কথা বার্তা বলেন । তার সাথে কথা বলেই কাজ শুরু হয় । পরবর্তী কালে টি এন মিত্র না থাকার জন্যে বাধা আসে । কমিটির সভাপতির পদ শুন্য আছে বর্তমানে ।
দ্বিতিয়তঃ কালিকা নন্দ আশ্রমের সাধুবাবা ইঞ্জাং সন দেয় । কারন জমিটা কালিকা নন্দ জী র নামে আছে । তার উত্তরাধিকারী সেবাইত হিসাবে বর্তমান সাধুবাবা তার স্বত্বাধিকারী । অবশ্য জমিটা পূর্বতন  মালিক শিয়ারশলের রাজা ,বেঙ্গল কোল ,ও আচার্য পরিবার তারা জমিটা কালিকা নন্দ জী কে দান করেন ।  তবে লিখিত কোন দানপত্র নেই । অবশ্য সরকারী রেকর্ডে এটা কালিকা নন্দ জীর ।
রামকৃষ্ণ আশ্রমের পক্ষ থেকে সাধুবাবার কাছ থেকে অনুমতি নেওয়া সত্ত্বে কিছু লোকের প্ররোচনায় সাধুবাবা ইঞ্জাকশন ও ১৪৪ ধারা জারী করেন । কারন সাধুবাবা ঐ খানে বস্তি বসিয়েছেন তাদের কাছ থেকে নিয়মিত ভাড়া আদায় করেন । এখন তারা উঠতে চাইছে না ।
এছারা সাধুবাবা কত গুলি শর্ত দিয়েছেন যা মেনে আশ্রমের পক্ষে কাজ সম্ভব নয় ।
১ কালিকা মন্দির আগে নির্মাণ করতে হবে ।
২মাসিক ৩০০ টাকা মাসহারা দিতে হবে ।
৩ পুজার সমস্ত কর্তৃত্ব তার হাতে থাকবে ।
৪ তীর্থ ভ্রমণের খরচ দিতে হবে ।
সাধুবাবার অনমনীয় মনোভাবের জন্য আশ্রম গড়ার কাজ বর্তমানে থমকে দাঁড়িয়েছে ।
তৃতীয়তঃ লক্ষ্মীনারায়ণ কুণ্ডু ও শোভাকর মণ্ডলের উপর আশ্রম নির্মাণের কাজের ভার দেওয়া হয় । তাদের নিজেদের মধ্যে মতবিরোধ হবার ফলে কনট্রাক্টর ব্রিজন প্রসাদ কাজ ছেরে দেয় । কোর্টে মামলা দায়ের আশ্রমের নামে । ব্রিজন প্রসাদ অভিযোগ করে তাকে হয়রানি করা ,জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে যাওয়ার অভিযোগ করে ৭০ হাজার টাকা দাবী করে ক্ষতিপূরণ চান । আশ্রমের তরফ থেকে মামলা মিটিয়ে ফেলার অবিরাম প্রচেষ্টা ফলে ১৪ হাজার টাকা দিয়ে কনট্রাক্টর ব্রিজন প্রসাদের সাথে মামলা মিটিয়ে ফেলা হয় ।
এই সমস্ত কারনের জন্যে এই অঞ্চলের ধর্মীয় ও জন কল্যাণ মূলক অগ্রণী প্রতিষ্ঠান নষ্ট হতে চলেছে । সময় থাকতে একে টিকিয়ে রাখার ব্যবস্থা না করলে কালের গহ্বরে চলে যাবে । তাই সমাজ সম্পর্কে আমাদের দৃষ্টি দেওয়া দরকার । তবে বর্তমান কমিটির সম্পাদক শম্ভুনাথ পট্ট নায়কের কথায় বলি " আপনারা শুধু অগ্রণী তে লিখে ই শেষ করবেন না । আসুন সমস্ত বাধা বিঘ্ন দূর করে সমাজ কল্যাণ মূলক কাজে আশ্রম কে এগিয়ে নিয়ে যাবার দায়িত্ব নিন ।"
পরিশেষে  আশ্রম পরিদর্শন করতে শম্ভুনাথ বাবু ও অন্যান্য ব্যক্তির সাথে আলাপ আলোচনা করতে গিয়ে যে অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরে এলাম । যা দুরগাপুরের এই অঞ্চলের মানুষের কাছে গুরুত্ব পূর্ণ বিষয় । এই এলাকায় মানুষের অর্থে গড়া সমাজ কল্যাণ মূলক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান একটি অচল অবস্থা মধ্যে পড়ে আছে তা কাটিয়ে তোলার জন্য সমস্ত স্তরের মানুষ কে এগিয়ে আসা একান্ত প্রয়োজন । কল্পতরু মেলার মধ্য দিয়ে যে টাকা জমা আছে তার সদ্ব্যবহার হওয়া প্রয়োজন । তারপর রামকৃষ্ণ কালিকা নন্দ জীর আশ্রম যে সমস্ত পরিকল্পনা করে ছিল তাকে বাস্তবায়িত করতে হবে । এতে এলাকার মানুষের উপকার হবে ।

বি দ্র ঃ
পরবর্তী সময়ে সেক্টর সমন্বয় কমিটির নামে এই মেলা কে দুর্গা পুর  সংস্কৃতি ক মেলা নামে এই মেলা সি পি আই এম দল পরিচালনা করেছে ।


No comments:

Post a Comment